ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে। দিল্লিজুড়ে আটক বিক্ষোভকারীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে।
আটক মমতা, কেজরিওয়ালসহ চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলন চলছে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের আটক করতে অভিযান চালানো হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্নায় বসার পর পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়। মমতার সঙ্গে আটক হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে।
অন্যদিকে, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তাঁর লোধি এস্টেটের বাসভবনের সামনে থেকে আটক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে তাঁকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই-এমের নেতা মানিক সরকারকেও দিল্লিতে আটক করা হয়েছে। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও আটক হয়েছেন।
দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার পর থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। তবে পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। যন্তর মন্তরমুখী বাসগুলোতে তল্লাশি এবং দিল্লির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়।বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে প্রায় ৩৫ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে।
বিজেপি নেতার মেয়েও আটক
বিক্ষোভের মধ্যে উত্তর প্রদেশের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংহের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিংকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
আটক হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, পার্কে বসে থাকার কারণে বাংলা সাহিব এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে কেশব পুরম থানায় রাখা হয়। যশস্বিনী এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন।
নেহা বোরাও আটক
ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে একটি পুলিশ বাসে রাখা হলে বিক্ষোভকারীরা বাসটি ঘিরে ধরেন।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী নেহা বোরার নেতৃত্বে শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলন জোরালো হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান এই আন্দোলনে তিনি অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেহা জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভের স্থান যন্তর মন্তর থেকে দিল্লি হাটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর পরপরই তাঁকে আটক করা হয়।
আটক সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আগে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আগের রাতেই ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় দিপকে জানিয়েছিলেন, তারা আটক হলে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানায় সিজেপি। তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
দিল্লিতে মিছিল থেকে জেনজি আইকন নেহা বোরা আটক
দিল্লিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা জেন-জিদের
অভিজিৎ দীপকে আটক
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে আটক ধ্রুব রাঠি